শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

‘ঝড় আসবে তাই আতঙ্কে আছি ঘুম হবে না সারারাত’

খুলনা ব্যুরো : ঝড় আসবে তাই আমরা আতঙ্কে আছি। আমাদের বাড়ির সামনের এই বাঁধ ভেঙে গেলে পুরো গ্রাম প্লাবিত হয়ে যাবে। আজ (বৃহস্পতিবার)  সারারাত আমাদের ঘুম হবে না। পরিবার নিয়ে খুব চিন্তায় আছি। এ কথাগুলো বলছিলেন কয়রা নদীর পাড়ের মহেশ্বরীপুর গ্রামের মো. ইবাদুল শিকারী।

ঘূর্ণিঝড় ডানার প্রভাবে কয়রা উপজেলায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে। দুর্বল বেড়িবাঁধ নিয়ে সকলে আতঙ্ক আর উৎকন্ঠায় রয়েছে। ইবাদুল শিকারী আরও বলেন, বাড়ির পাশে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র নেই অনেক দূরে গিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে থাকতে হয়। বাড়িতে কডা ছাগল আছে এগুলো কোথায় রাখবো তাই নিয়ে ভাবতেছি। কপোতাক্ষ নদীর পাড়ের দশালিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. নূরুজ্জামান বলেন, শুনতেছি আবার নাকি বড় একটা ঝড় আসবে, লোকজন দোকান-পাটে বলাবলি করিতেছি, খবরে দেখাচ্ছে। সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে সূর্য দেখা পায়নি। ঝড় হলে আমাগে এলাকায় খুব বড় বিপদ হয়। আমাগে দশহালিয়া বাঁধ বার বার ভেঙে যায়। বৌ, বাচ্চা নিয়ে বাইরে পরের বাড়িতে থাকতে হয়। আগে কয়েকটা ঝড়ে আমাগে মেলা ক্ষয় ক্ষতি হয়ছে। মানুষের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে তাই ঘরটা ঠিক করছি। ঝড়ের ঝামটে ঘরের মধ্যে থাকা যায় না। বিকেলে কয়টা শুকনো খাবার কিনে এনে রাখবো। রাতে কোথাও একটা ভালো জায়গায় থাকতে হবেনে। প্রতিবার ঝড় হলে আমার বাড়ি ভেঙে যায়। নদীর চরে বাস করি। খুব কষ্ট জীবন কাটাতে হয়।

উপজেলা সদরে ভ্যানচালক কালনা গ্রামের বাসিন্দা মো. ইদ্রিস মোল্লা বলেন, ঘূর্ণিঝড় ডানার জন্য রাস্তাঘাটে তেমন কোন লোকজন বেরোচ্ছে না সকাল থেকে অল্প কয়টা টাকা আয় হয়েছে। এখন বাড়ি যাচ্ছি। কয়রা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় ডানা মোকাবেলায় কয়রা উপজেলা ১১৬ টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুলী বিশ্বাস বলেন, ঘূর্ণি ঝড় দানা মোকাবেলায় সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। আমাদের কন্টোল রুম খোলা আছে, সাইক্লোন শেল্টার গুলো খুলে দেয়া হয়েছে। সিপিপি সদস্যরা কাজ করছে। মানুষের সচেতনতার জন্য মাইকিং করা হয়েছে। নিরাপদ খাবার পানি ও শুকনো খাবার মজুদ আছে। আমি বিভিন্ন জায়গার বেড়িবাধ পরিদর্শক করেছি। সেখানে অসুবিধা আছে সেজায়গায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করছে। উপজেলার সকল কর্মকর্তারা ষ্টেশনে আছেন। অপরদিকে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় দানা’র প্রভাবে সুন্দরবন উপকূলীয় খুলনার পাইকগাছায় বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) ভোর রাত থেকেই শুরু হয়েছে থেমে থেমে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত। আর বৃষ্টির সাথে মাঝে মাঝে বইছে দমকা হাওয়া। যদিও উপকূলের নদ-নদী গুলোতে স্বাভাবিকের তুলনায় জোয়ারের পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে অতিরিক্ত জোয়ারের পানির চাপে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্ব স্ব এলাকার বাসিন্দারা। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ নিয়ে উপজেলার দেলুটি, গড়ইখালী, লস্কর, রাড়–লী, লতা, গদাইপুর ও সোলাদানাসহ à§­ ইউনিয়নের বাসিন্দারা আতঙ্কিত রয়েছেন। তবে ঘূর্ণিঝড় দানা মোকাবেলায় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। পাইকগাছা উপজেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্যানুযায়ী ঘূর্ণিঝড় দানা মোকাবিলায় ঝুঁকিপূর্ণ ইউনিয়ন গুলোর বাসিন্দাদের জন্য ১০৮টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। খুলনা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আমিরুল আজাদ জানান, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে à§© নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আর ঝড়ের মূল পথ উড়িষ্যা ও পশ্চিমবঙ্গের দিকে হওয়ায় খুলনায় তেমন আতঙ্কের কোন কারণ নেই। তবুও সুন্দরবন উপকূলীয় খুলনাঞ্চলে দমকা হাওয়া ও বৃষ্টি হতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ